স্কুলের প্রথম দিন আর শেষ দিনটা একই ছিল।
চোখে জল ফেলেছিলাম দুই দিনেই।
কিন্তু কারণটা ছিল একবারে আলাদা।
একটা স্কুলে যাবার আনন্দ, আরেকটি বিদায়ের ব্যথা
স্কুল জীবন বিদায়ের দিন
পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে ক্ষণস্থায়ী মানবজীবনের বাঁকে বাঁকে বহু স্মৃতি জমে থাকে। তেমনি আমার জীবনে বিদ্যালয়ের শেষ দিনের স্মৃতি এক মধুময় অনুভব। তবে স্মৃতির সাথে জড়িয়ে রয়েছে স্যার, বন্ধুবান্ধব এবং স্কুল ছেড়ে আসার বিষাদময় যন্ত্রণা।এই স্মৃতি ভুলার মতো নয়। আজীবন জড়িয়ে থাকবে এই স্মৃতি।
সবচেয়ে মজার ছিল পাঞ্জা লড়াই; প্রায় প্রতিদিনই হতো ৷ প্রতিটি ক্লাসের পরপর সবাই দুষ্টুমি করে মারামারি করতো৷আজও সেই দৃশ্যটি মনে পড়ে। তখন ভালো লাগতো না বিষয়টা। তবে এখন খুব মিস করি।
”পুরোনো সেই দিনের কথা ভুলবি কিরে হায়
ও সেই চোখের দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়”
আসলেই শৈশব ও কৈশরের সেই প্রথম আবেগ, ভালবাসা সে কি কখনো ভোলা যায়।প্রিয় বিদ্যাপীঠ যেন আমার কাছে জীবনান্দের সেই নাটরের বনলতা সেন, যার কাঁজল কাল চোখের দিকে তাকিয়ে যেমন সারা জীবন পার করে দেওয়া যাবে তেমনি প্রিয় বিদ্যাপীঠের আবেগ জড়িত স্মৃতিগুলো নিয়ে পার করে দিতে পারবো আমার বাকি জীবন। প্রিয় বিদ্যাপীঠ আমার কাছে লালনের সেই আরশি নগর, যার দিকে তাকালে আমি আমার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। আমার শৈশব ও কৈশরের প্রতিটি মুহূর্ত যেন চোখের সামনে ভেসে উঠে। প্রিয় বিদ্যাপীঠ আমার কাছে শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবি, যার সৌন্দর্য আমার চোখকে কখনো পুরোনো করে না। যতবার দেখবো ততবারই যেন প্রিয় বিদ্যাপীঠের ছবি ধরা দিবে নতুন সৌন্দর্যে ও নতুন মহিমায়।
ফেলে আসা দিনের নানা স্মৃতি মানুষকে আন্দোলিত করে। দূর অতীতকে জীবন্ত করে বর্তমানকে ভুলিয়ে দিতে চায় স্মৃতি। তবে সুখ-স্মৃতিময় অতীতকে নিয়ে ভাবতে মানুষ বড় বেশী ভালোবাসে। আর সে যদি হয় শৈশব কৈশরের স্মৃতি বিজড়িত অতীত তবে তো আর কথাই থাকে না।প্রতিটি মানুষকে প্রবলভাবে আকর্ষন করে থাকে সে অতীত।
স্মৃতিতে অস্পষ্ট হলেও আমার খুব স্পষ্ট মনে আছে স্কুলের সব কথা।শিক্ষক শিক্ষিকাদের কথা।পেয়েছি সুনাগরিক তৈরি করার কারিগর। আর পেয়েছি সুখ দুঃখ ভাগ করে নেওয়া প্রিয় সহপাঠীদের। যাদের সান্নিধ্যে কেটেছে আমার সেদিনের সেই রঙিন সময়।
স্কুলের সকল স্মৃতি এখনো জীবন্ত।ঠিক তেমনই যেমনি আমরা প্রতিদিন কাঠিয়েছিলাম সকলে সকলের সাথে।আর সেই স্মৃতি আর অনুভূতিগুলো যদি দেখাতে পারতাম তাহলে বুঝাতে পারতাম স্কুলের সাথে জড়িত স্মৃতিগুলো কত গুরুত্ব।এই স্মৃতিগুলোকে হাজার শব্দ বা বাক্যে দিয়ে বুঝানো সম্ভব না তা শুধু মনের অনুভুতি দিয়ে বুঝানো সম্ভব।
অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন
পুরোনো সব স্মৃতি এখন বেশি মনে পড়ে।আমাদের বিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো সকলকে নিয়ে পূর্নমিলনী হবে জেনে আবারো সকল স্মৃতি এসে ভিড় করেছে।সে সব মনে করে কখনো অট্টহাসিতে লুটিয়ে পড়ছি না হয় কখনো অশ্রুজলে সিক্ত হচ্ছে আখিঁ।
স্মৃতি বিজড়িত সোনালী স্কুলের ক্যানভাস
আমার স্কুল জীবন যে কত সুখের, কত গৌরবের ছিল, তা আজ স্কুল ছেড়ে এসে বুঝতে পারছি।তাই আজ স্কুল জীবনের কথা স্মরণ করলে হৃদয়ে-বেদনার অনেক ছায়া জেড়ে ওঠে- ‘বিস্মৃতির অতলে স্মৃতিভাণ্ডার রইবে অম্লান চিরদিন।’
জীবনের ক্যানভাসে এমন কিছু স্মৃতির ছবি আঁকা থাকে যা কোনোদিন ভুলে থাকা যায় না। ঘুমহীন চোখে সেইসব স্মৃতিরা ক্রমাগতই যেন পিছু টানতে থাকে আর তখনি কালের তরীতে ভেসে হারিয়ে যাই স্কুলের সেই সোনালি শৈশবের দিনগুলোতে !
এই প্রিয় বিদ্যালয় এর মধ্যে লুকিয়ে আছে আমাদের হাজারো অজানা স্মৃতি, স্মৃতিকথা। যা আজ আমি আনন্দ আর স্মৃতি কাতরতায় স্মরণ করছি। জরাজীর্ণ ভবনে শুরু হওয়া স্কুল প্রাণ ফিরে পায় একঝাঁক কিশোর-কিশোরীর দৃপ্ত পদচারণায়। সেই পলেস্তারা খসা দেয়াল, সবুজ ঘাসের মাঠ আজো বুকে জাগায় শিহরণ।